ইথিওপিয়ায় ড্রোন হামলায় শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১৬

ইথিওপিয়ায় ড্রোন হামলায় শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১৬
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি। ছবি: এএফপি/বাসস
Advertisement
Advertisement

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আমহারা অঞ্চলে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়শিবিরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সংঘাত পর্যবেক্ষকদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত হায়িক শহরের কাছে ‘হায়িক জারি ২ তুর্ক’ শিবিরে হামলাটি চালানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিন অন্তঃসত্ত্বা নারী, আট বছরের এক শিশু ও কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

ইথিওপিয়ার সংবাদমাধ্যম আদ্দিস স্ট্যান্ডার্ডকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বাস্তুচ্যুত মানুষ যখন আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে ছিলেন, তখন ড্রোনটি অন্তত ১৫ মিনিট পরপর মোট পাঁচবার শিবিরে আঘাত হানে। তারা ধারণাই করতে পারেননি যে আশ্রয়শিবিরে ড্রোন হামলা চালানো হতে পারে।

আরও পড়ুন

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ফ্রন্টলাইনস ইথিওপিয়া’ ২৯ অক্টোবরের এই হামলার তথ্য নথিভুক্ত করেছে। অন্য স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই এলাকায় ড্রোনের পাশাপাশি কামানের গোলাও ছোড়া হয়েছে।

বাসিন্দারা জানিয়েছে, হামলায় ২০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। এতে পরিবারগুলো আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং অনেক শিশু স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

আহতদের দ্রুত হায়িক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শিবিরটিতে ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করেন, যাদের অনেকেই ওরোমিয়া অঞ্চলের সহিংসতা ও ওয়োলেগা এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছেন। সাহায্য-সহায়তা কমে যাওয়ায় এমনিতেই তারা খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের চরম সংকটে ছিলেন; নতুন এই হামলায় তাদের মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ রূপ নিয়েছে।

২০২৩ সাল থেকে আমহারা অঞ্চলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘ফানো’ মিলিশিয়াদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। চলমান সামরিক অভিযান ও ড্রোন হামলায় প্রতিনিয়তই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বেসামরিক মানুষ।

ইথিওপিয়ার সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে এ সহিংসতা নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে অঞ্চলে আবারও সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গেও উত্তেজনা বাড়ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad