ইরান যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের তিন তারকা জেনারেল ব্রেট সিলভিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পেন্টাগন। অভিযোগ ওঠার পর তাকে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পরিকল্পনা-সংক্রান্ত পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এপির খবরে বলা হয়, বুধবার রাতে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে সরিয়ে দিয়েছেন। এ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও তার অধীন কর্মীরা সাধারণত জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সামরিক পরিকল্পনা তৈরি ও সমন্বয়ের কাজ করেন।
বরখাস্তের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। তবে পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পেন্টাগন কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে গোপন তথ্য সরবরাহের অভিযোগে সিলভিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ওই কর্মকর্তার দাবি, গোপন তথ্য ফাঁসের বিষয়ে তিনটি পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন সিলভিয়া।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, স্পর্শকাতর তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সিলভিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। বিষয়টি সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের জন্য বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে সামরিক বিচারব্যবস্থার পরিবর্তে কেন বেসামরিক আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে সিলভিয়ার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিলভিয়া ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত কেনটাকির ফোর্ট ক্যাম্পবেলে অবস্থিত ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জয়েন্ট স্টাফে যোগ দেন। এর আগে তিনি সম্প্রতি যে দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন, সেটির উপপরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। তার সামরিক পদকের মধ্যে রয়েছে ছয়টি ব্রোঞ্জ স্টার মেডেল, যার একটি বীরত্বের জন্য, এবং একটি পার্পল হার্ট।
এদিকে আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের মধ্যে আগামী সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দেশটিতে নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। তবে পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধের মূল পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সিলভিয়া ছিলেন না। এ দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের।
গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের অভিযোগে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হেগসেথের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি। এর আগে গত বছর তার ঘনিষ্ঠ তিন সহযোগীকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধেও তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তদন্ত চলছিল এবং পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।
হেগসেথের দায়িত্ব গ্রহণের পর পেন্টাগনে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে সাংবাদিকদের পেন্টাগন চত্বরে চলাচলের সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকতে হয়। পাশাপাশি পেন্টাগনের প্রেস দপ্তরকে গোপনীয় এলাকা ঘোষণা করায় সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে।


