চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর মাকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান রুমী। মামলার আসামি মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম সামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
রুমী জানান, গত ২৫ অক্টোবর রাতে মোনায়েম শরীফের দায়িত্ব পালনের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। এরপর ‘আল-হাইতাম ইবনে সামি’ নামের একটি আইডি থেকে তার মাকে নিয়ে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। পরে আইডিটি সামিউল ইসলাম সামি পরিচালনা করেন বলে শনাক্ত করেন তিনি।
এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর রাতে হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রুমী। পরে আইনজীবীদের পরামর্শে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৭ ও ২৯ ধারায় আক্রমণাত্মক বাক্য প্রেরণ ও মানহানির অভিযোগে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
রুমী বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। আমার মাস্টার্সের পরীক্ষায়ও এর প্রভাব পড়ে। তারপরও আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।’
ফেসবুক পোস্টে মোনায়েম শরীফের দায়িত্ব পালন, জাতীয় দিবসগুলোতে আলোচনা সভার আয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় ৭১’ স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমালোচনা করেন রুমী। সাত বীরশ্রেষ্ঠের পরিচয় ও নামের বানানে ভুল থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ার সমালোচনা করেন।
এদিকে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সামিউল ইসলাম সামি। রুমীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সামি বলেন, ‘আমি এই মন্তব্যের জন্য ফেসবুকে পোস্ট করে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এমনটা আর হবে না বলে রুমীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।’
ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে সামি বলেন, ‘আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই, তবে ছাত্রশিবিরকে সমর্থন করি, পছন্দ করি।’
সংবাদ সম্মেলনে রুমী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে গত কয়েক বছরে ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় যথাযথ বিচার না হওয়ায় নিজের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ জন্য বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন রুমী।


