এক টাকায় ৪ লাউ, বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক

এক টাকায় ৪ লাউ, বাম্পার ফলনেও লোকসানে কৃষক
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পঞ্চগড়ে এবার লাউয়ের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকেরা লাউ চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। বীজ বপন থেকে ফলন তোলা পর্যন্ত করেছেন পরিচর্যা, দিয়েছেন সার ও সেচ। কিন্তু ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম নেই।

উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেকে হতাশ হয়ে লাউয়ের বাগান কেটে ফেলছেন। গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন খেতের লাউ।

জেলার আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, লাউয়ের দাম না পেয়ে কৃষকেরা খেতে নষ্ট করছেন। কোথাও এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, এত কম দামে লাউ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক কেজি মোটা চাল কিনতে অন্তত ২০০টি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। আর ৭৫০ টাকা দামের এক কেজি গরুর মাংস কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার লাউ।

লাভের আশায় অনেকে ধারদেনা করে, ঋণ নিয়ে কিংবা অন্যের জমি বর্গা ও চুক্তিতে নিয়ে লাউ চাষ করেছেন। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় তাদের বিনিয়োগ তুলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কিছু বাজারে প্রতি পিস লাউ ২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও কৃষকেরা খেত থেকে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন

আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল ইসলাম বলেন, ‘লাভের আশায় লাউ চাষ করে এখন লোকসানে পড়েছি। ৪০ শতক জমিতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বাজারে লাউয়ের দাম পাচ্ছি না। উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘২ থেকে ৩ হাজার লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা হচ্ছে না। তাই কষ্ট নিয়ে বাগান কেটে ফেলেছি। লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছি। আমরা কৃষকেরা দাম না পেলেও বাজারে প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার লাউচাষি আনসারুল ইসলাম বলেন, ‘১০ দিন ধরে লাউক্ষেতে কোনো পরিচর্যা করছি না। সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে। অথচ এবার প্রতি পিস লাউ সর্বোচ্চ ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধারদেনা ও সুদে ঋণ নিয়ে অনেকে জমি বর্গা বা চুক্তিতে নিয়ে চাষ করেছেন। কিন্তু দাম না পেয়ে আমরা চরম লোকসানে পড়েছি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী সোলেমান আলী বলেন, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় এবার লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটোই ভালো হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। বাইরের বাজারেও তেমন দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলায় বছরে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad