শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে কক্সবাজারের ৩২৪টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিয়মিত টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং রিজার্ভ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাশকতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫।
সোমবার বিকাল ৪টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার কেন্দ্রীয় বিষ্ণু মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এ হুঁশিয়ারি দেন এসআরবি-১৫-এর কক্সবাজার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মো. মাহমুদুল রহমান।
তিনি বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ এ উৎসবকে সামাজিক সম্প্রীতির মিলনমেলায় পরিণত করে।’
নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পূজামণ্ডপ ও আশপাশে টহল জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কক্সবাজারে ৩২৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫৪টিতে প্রতিমা পূজা ও ১৭০টিতে ঘট পূজা। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপ বেড়েছে ছয়টি।
উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক হিসাবে চকরিয়ায় সবচেয়ে বেশি ৭১টি মণ্ডপ রয়েছে। কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালী উপজেলায় ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৮টি ও চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি মণ্ডপ রয়েছে। পেকুয়া ও উখিয়ায় নয়টি করে এবং মহেশখালী পৌরসভা ও টেকনাফে ছয়টি করে মণ্ডপ রয়েছে। উখিয়ার মণ্ডপগুলোর একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে।
এদিকে দুর্গোৎসবের শেষ দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
টেকনাফের বিষ্ণু মন্দির পরিদর্শনকালে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১-এর অধিনায়ক, টেকনাফ থানা পুলিশের সদস্য এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


