পিস্তল হাতে তাড়া করছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী, নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আবার সেই ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।
ইশরাকে হোসেনের এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় তৈরির পর সেই ভিডিও আবার তিনি সরিয়ে নিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে অস্ত্র হাতে তিনি তাড়া করতে পারেন কি না।
শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাকের ফেইসবুক পেজে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। এর ক্যাপশন লেখা ছিল, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’।
ঘটনাটি পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকার বলেও উল্লেখ আছে এতে। সেই ‘অভিযানে’ প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও সাদা পোশাকের আরও একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। তিনিও লোকদেরকে তাড়া করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস, আরেক হাতে পিস্তল। গাড়ি থেকে নেমেই একদল লোককে তাড়া শুরু করলেন তিনি। আবার পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে চিৎকার করেছেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পরে আর সেটি দেখা যায়নি।
গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ৬ জনকে ধরে মাদকসেবী বলে জানায়। এরপর তারা থানায় নিয়ে যান। তাদের কাছে কিছু পাউডার পাওয়া গেছে। সেগুলো কী, তা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে।
এক প্রশ্নে ওসি টাইমসকে জানান, এই অভিযানের বিষয়ে আগেভাগে তাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। আসামি ধরার পর ফোন দেওয়া হয়েছে তাদেরকে।
ভিডিওটি প্রকাশের পরেই প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান চালানো যায় কি না। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে অভিযানের ভিডিওটি মুছে দিলেও রাত ৯টার মধ্যে আরও তিনটি পোস্ট করা হয় ইশরাকের এই ফেসবুক পেজে। এর দুটি ভিডিও পোস্ট, একটিতে ছবি দিয়ে অভিযানের বর্ণনা দেওয়া হয়।
সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এক মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ একজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এর ক্যাপশনে লেখা, ‘লাইভ অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলেন ইশরাক, বিক্রেতারা ধরা!’
এটি যে সেই অভিযানেরই ভিডিও তাও বোঝা যায়। কারণ, এতে লেখা ছিল ‘তারিখ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬; স্থান: গেন্ডারিয়া, রেল লাইন সংলগ্ন।’
রাত ৮টার দিকে মোট আটটি ছবি পোস্ট করে বিকালের অভিযানের একটি বর্ণনা দেওয়া হয়, যার শিরোনাম ছিল, ‘ঢাকা-৬-এ মাদকের আস্তানায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অভিযান, আটক ৬।’
এতে লেখা হয়, ‘রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।’
অভিযানের সময় ইশরাক বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।’
এর আগেও ইশরাক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। এতে লেখা হয়, ‘প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।’
রাত ৯টার দিকে ইশরাকের ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যেখানে তাকে অভিযানের পর স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়।


