চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
চিংড়ি রপ্তানিতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের তাগিদ। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে চিংড়ি খাতবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম (এমবিএ) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সদস্য প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিং (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের জমি প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি থাকলেও রপ্তানিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে এ ব্যবধান কমাতে উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণে চিংড়ি খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, গত বছর বাংলাদেশের হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যেখানে ২০২৪-২৫ সালে ভারত ৫০০ কোটি ডলারের বেশি চিংড়ি রপ্তানি করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা এখন শুধু পণ্যের মান যাচাই করেন না; পণ্যটি কারা উৎপাদন করেছেন, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ কেমন এবং উৎপাদন পরিবেশসম্মত হয়েছে কি না–এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তাই কাগুজে নথিনির্ভর পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে সমন্বিত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।’

আরও পড়ুন

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট সেল’ গঠন করেছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকারসহ দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের জাতীয় নীতিমালা এবং ট্রেসেবিলিটি কৌশল প্রণয়নেও কাজ চলছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাংলাদেশের চিংড়ির সবচেয়ে বড় বাজার উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, এই খাতের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কৃষক, ডিপো কর্মী, প্রক্রিয়াজাত কারখানার শ্রমিক ও রপ্তানিকারকদের ন্যায্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেয়জা। সমাপনী বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন।

সংলাপে বক্তারা বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের চিংড়িকে আন্তর্জাতিক বাজারে দায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad