৩৫ বছর বয়সের পর আইনজীবী হওয়া যাবে না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নেয়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন।
বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের বক্তব্যের পর সারা দেশের আইনজীবী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান।
জয়নুল আবেদীন জানান, ১৫ সদস্যের বার কাউন্সিলে অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে চেয়ারম্যান। নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তার কোনো ভোটাধিকার নেই। নির্বাচিত ১৪ সদস্যের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ভোটাধিকার রয়েছে নির্বাচিত সদস্যদেরই। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নির্বাচিত সদস্যদের নেতৃত্ব দেন এবং সারা দেশের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, প্রতি বছর বার কাউন্সিলের একটি বর্ধিত সভা হয়। এতে কাউন্সিলের নির্বাচিত ও পদাধিকারবলে সদস্যদের পাশাপাশি দেশের সব আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংশ নেন। তবে বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়ে এ ধরনের কোনো সভা হয়নি। বার কাউন্সিলও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বয়সসীমা নির্ধারণ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, আইনমন্ত্রী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে পারেন। সেই বক্তব্য কীভাবে গ্রহণ করা হবে, তা দেশের আইনজীবীরাই নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, সেখানে আমার বা চেয়ারম্যানের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কোনো আইন পাস হবে না। সে আইন (বয়স নির্ধারণের) আগে হোক, তারপর এ বিষয়ে বলা যাবে। এখনো তো এটা কোনো আইনে পরিণত হয়নি।
এর আগে, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার তিনি জানান, এ সিদ্ধান্ত ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ সময় মঞ্চে থাকা অ্যাটর্নি জেনারেলের দিকে তাকালে তিনি বলেন, অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সারা দেশে আইনজীবী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা নির্ধারিত থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ আইনজীবীদের পেশা থেকে অবসরের জন্য কোনো আইনে নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। এমন প্রেক্ষাপটে আইন পেশায় প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে।


