বাঙালি জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি প্রকৃত জনযুদ্ধ ও জাতির যুদ্ধ। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
শনিবার রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘সিনিয়র টাইগার্স’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিনিয়র টাইগার্সের অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পুনর্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল নাম। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ রেজিমেন্ট ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সবচেয়ে বেশি বীরত্বসূচক সাহসিকতার পুরস্কার অর্জন করে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ রেজিমেন্ট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু না করলে বাংলাদেশ হয়ত এখনো পাকিস্তানের অংশ থাকত।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিল।
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ যারা দেখেনি, তারা জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় প্রত্যক্ষ করতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল এ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস।
তিনি আরও বলেন, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের জীবন ছিল রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি মুহূর্তে তারা যুদ্ধজয়ের আনন্দ এবং মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন। অসীম সাহসিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে তারা জাতির গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে স্পিকার ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে নিজের জীবনের স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে এ রেজিমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিনিয়র টাইগার্সের পক্ষ থেকে স্পিকারকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও সেনা কর্মকর্তা, বিশিষ্ট অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


