মেহেরপুর সদর উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা হাবেল (৭০)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে শাহাবুলের বিরুদ্ধে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাবুল নিজেই সদর থানায় গিয়ে হাজির হন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিহত হাবেল ঝাউবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, প্রায় দুই বছর আগে হাবেলের স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এ সিদ্ধান্তে আপত্তি ছিল ছেলে শাহাবুলের। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পাশাপাশি জমিজমা নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে নিজেদের জমিতে কাজ করতে বাড়ি থেকে বের হন শাহাবুল। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার বাবা জমির একটি অংশ গোপনে অন্য একজনকে বর্গা দিয়েছেন। এ নিয়ে ওই বর্গাচাষির সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও বিরোধ হয়। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে ফিরে ঘাস কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো ডাসা নিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন শাহাবুল। সে সময় তার বাবা ঘুমিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমন্ত বাবা হাবেলের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন তিনি। এতে গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ পর অভিযুক্ত শাহাবুল নিজেই থানায় গিয়ে হাজির হন।
ওসি হুমায়ুন কবীর আরও জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে শাহাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


