সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় পাওয়া গেছে।
রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মোছা. শাহেরা বেগম।
অন্যদিকে, নিহত মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মায়ের নাম জাহানারা বেগম।
ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরী কামরাঙ্গীরচরের ২ নম্বর পূর্ব রসুলপুরের ঘাট এলাকার জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন।
৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম রসুল শামীম জানিয়েছেন, তার মৃত্যুতে কামরাঙ্গীরচরের আলেম সমাজ ও মাদ্রাসাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তিনি জানান, মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ ৪৫ জনের একটি কাফেলা নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান নাসরুল্লাহ। রিয়াদ বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন তারা। এ ঘটনায় একই মাদ্রাসার আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা সাঈদ, মাওলানা রিয়াজ মানসুর, মাওলানা আবদুল্লাহ, মাওলানা সাফ্ফাত রহমান, মাওলানা দাউদ ইসলাম, মাওলানা নুরুল্লাহ, মাওলানা আরমান, মাওলানা মাসুদ ও হাফেজ হাসান। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার বিকাল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। ওই সময় সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এতে ঘটনাস্থলে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩০৯ জন আহত হন।
নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুইজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন হুথিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি।


