রাজশাহীর ফ্লাইওভার, গন্তব্যহীন যাত্রা

রাজশাহীর ফ্লাইওভার, গন্তব্যহীন যাত্রা
ছবি: বিপুল আহমেদ/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজশাহী নগরীতে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পাঁচটি ফ্লাইওভারের কাজ চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। এর ফলে নগরজুড়ে যানজট ক্রমেই বাড়ছে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

নগরীর যানজট নিরসন এবং মহানগর এলাকার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলতে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রেলগেট এলাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ছবি: বিপুল আহমেদ/ টাইমস

 

অন্য ফ্লাইওভারগুলোর নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও রেলগেট ফ্লাইওভারের কাজ বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এক পাশ বন্ধ থাকায় যানবাহনগুলোকে সরু বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তার ওপর সড়কের পাশে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় যান চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়েছে। ফলে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে এবং ব্যস্ত সময়ে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে।

আরও পড়ুন

এই সড়কে প্রতিদিনের যাতায়াত নগরবাসীর কাছে এখন এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। যে পথ পাড়ি দিতে একসময় অল্প সময় লাগত, এখন সেখানে দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই এই সড়কে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও যানজটের মধ্যে পড়ছেন। দিনের পর দিন এ দুর্ভোগের কারণে তাদের চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এই পথের কারণে নিত্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার মধ্য দিয়ে যে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, তার সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা কঠি। তবে এ ক্ষতির বাস্তবতা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিল পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন পরিষেবা সংস্থার করে ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরে সমস্যার কারণে নির্মাণকাজে বিলম্ব হচ্ছে।

ছবি: বিপুল আহমেদ/ টাইমস

 

বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা নতুন নয়। তবে এসব সমস্যার সঙ্গে মানুষ পরিচিত হলেও তার অর্থ এই নয় যে, এমন পরিস্থিতি তাদের জন্য কম হতাশাজনক। জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (আরসিসি) সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারদের নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। নগরবাসী আশা করছেন, আর কোনো বিলম্ব ছাড়াই বাকি কাজ শেষ হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো শিগগিরই স্বাভাবিক যান চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে। এতে চলমান নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিনের দুর্ভোগও কমে আসবে।

আপাতত ফ্লাইওভারগুলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর দীর্ঘসূত্রতার অর্ধনির্মিত স্মারক হয়ে অসমাপ্তই রয়ে গেছে। আর রাজশাহীর মানুষ এই আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন যে, একদিন প্রতিশ্রুত সেই সড়কগুলো সত্যিই তাদের চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad