দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াটের বিপরীতে প্রকৃত উৎপাদন ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট। তবে এ উৎস থেকে প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এবং বাজেট বরাদ্দ পর্যালোচনা করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে বলে জানানো হয়। এসব প্রকল্পে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকেরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন।
এ ছাড়া ছাদভিত্তিক সৌর প্যানেল থেকে কত পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, তা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্নসংবলিত লিখিত কাগজ উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তী বৈঠকে এসব প্রশ্নের উত্তরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত অংশ নেন।


