গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বার্থে নতুন চুক্তি করতে বিএনপি সরকার কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
তিনি বলেছেন, শুধু গঙ্গা নয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব অভিন্ন নদীতে দেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিলে বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি সরকারকে সমর্থন করবে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত ‘আবরার ফাহাদ: দিল্লির আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। সভাটি আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে একটা পরীক্ষা যে তারা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বাংলাদেশের পক্ষে তারা নির্মাণ করতে পারবে কি না।’
আখতার বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশের ন্যূনতম পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও অনেক সময় চুক্তি অনুযায়ী পানি পাওয়া যায়নি। এ কারণে চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুধু একটি বা দুটি নদীর মধ্যে পানিবণ্টনের বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব অভিন্ন নদীর হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র এক-দুটি নদীতে নয়, যতগুলো অভিন্ন নদী আছে প্রত্যেকটা জায়গাতেই আমাদের যে হিস্যা আছে, সেটা আমাদেরকে আদায় করতে হবে।’
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধেরও দাবি জানান আখতার হোসেন। তিনি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তকে ‘লাশের সীমান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার অজুহাতে বাংলাদেশের মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা মেনে নেওয়া হবে না।
ফেলানি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সীমান্তে কৃষিকাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।
আখতার বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষার অজুহাতে বাংলাদেশের মানুষকে নির্বিচারে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হবে, এই ঘটনা আমরা আর দেখতে চাই না।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ও দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে গুলি বন্ধ করতে হলে ভারতের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আখতার। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, পানি ও সার্বভৌমত্বের মতো বিষয় নিয়ে কথা বলার কারণে আবরার ফাহাদ প্রতিবাদী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত না সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আমরা সুরক্ষিত করতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আবরার ফাহাদ আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।’
বাংলাদেশের স্বার্থে সরকার অবস্থান নিলে এনসিপি সহযোগিতা করবে জানিয়ে আখতার বলেন, কিন্তু দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো নতজানু নীতি গ্রহণ করা হলে তা জনগণ মেনে নেবে না।


