কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তেয়ারিচর-বাঁশগাড়ি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছে না। কোদালকাটি নদীর ওপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। বর্ষায় নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের তেয়ারিচর ও গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটি চালু হলে উপজেলার সদর এলাকার সঙ্গে চারটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ সহজ হতো। তবে নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২০ সালে ৯ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৪৬২ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের মার্চে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর ২০২৪ সালে সেতুর ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়। তবে দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, সংযোগ সড়কের জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে জটিলতা দেখা দেওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম মিয়া বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। সরকার মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করেছে। কিন্তু দুই পাশে সড়ক না থাকায় এটি কোনো কাজে আসছে না। শুকনা মৌসুমে কষ্ট করে পায়ে হেঁটে সেতু পার হতে হয়।’
বাঘাইকান্দি গ্রামের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহিম বলে, ‘স্কুলে যেতে আমাকে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় উঁচু সেতুতে উঠতে ও পার হতে অনেক কষ্ট হয়। এরপর রিকশায় করে স্কুলে যেতে হয়। সরকার যেন দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করে দেয়।’
ভৈরব উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘তেয়ারিচর-বাঁশগাড়ি সেতুর ৯৮ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে জমিসংক্রান্ত জটিলতায় দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ রয়েছে। সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে। আশা করছি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করবে।’
দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হোক।


