নওগাঁর ধামইরহাটে ছাগল করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে হতাহতের ঘটনায় করা মামলার এজহারে থাকা সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার বিকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার গভীর রাতে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার বড়শিবপুর (মাষ্টারপাড়া) গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), মৃত আব্দুল গফুরের দুই ছেলে আব্দুল হাকিম (৬০) ও মো. কফিল উদ্দিন (৬৫), ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫), মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে হামিদা বেগম (৩৮), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম রনির স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (২১)। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য ও সম্পর্কে মা-বাবা ও চাচা-চাচী এবং ছেলে ও ছেলের বউ।
এ ঘটনায় নিহত আবুল কাশেম ওই গ্রামের মৃত রাজ মাহমুদ মন্ডলের ছেলে। আর আহতরা হলেন—নিহতের বড় ভাই মুক্তার আলী, ভাইয়ের স্ত্রী রেখা বেগম, বড় ভাই বদিউল ইসলাম এবং ছোট ভাই ইমরান আলী।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. রনির (৩৫) জমিতে লাগানো করলা গাছ খেয়ে ফেলে একটি ছাগল। এ নিয়ে রনির সঙ্গে কৃষক আবুল কাশেমের পরিবারের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় অভিযুক্ত রনি ধারালো চাকু দিয়ে আবুল কাশেমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
এলাকাবাসী জানায়, উভয়ের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাশেমসহ মোট পাঁচজন গুরুতর জখম হয়ে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে আহত আবুল কাশেম মারা যান। তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অন্য আহতরা জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই ঘটনায় নিহত কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধান ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার বিভিন্ন জায়গায় রাতব্যাপী অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। পরে হত্যা মামলা হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিন্টু রহমান।


