চূড়ান্ত সুপারিশের পরও গেজেটবঞ্চিত শতাধিক বিসিএস প্রার্থী

চূড়ান্ত সুপারিশের পরও গেজেটবঞ্চিত শতাধিক বিসিএস প্রার্থী
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৪৩তম, ৪৪তম ও ৪৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শতাধিক প্রার্থী বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অস্পষ্ট তথ্য, ভিত্তিহীন গুজব ও রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমার কারণে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও তাদের নাম গেজেটে প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রার্থীরা।

দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সংবাদ সম্মেলন করেন গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ৪৩তম বিসিএসের প্রার্থী কাঞ্জিলাল রায় জীবন বলেন, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর ৪৩তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর ২ হাজার ৬৪ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়। তাদের যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ নভেম্বর। অনেকে আগের চাকরি ছেড়ে বিসিএসে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

পরে যোগদানের তারিখ পরিবর্তন করে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি করা হয়। কিন্তু যোগদানের মাত্র দুই দিন আগে, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ওই গেজেট বাতিল করা হয়।

আরও পড়ুন

এরপর ২০২৫ সালের ২০ মে ২ হাজার ২৭১ জনের সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে আগের গেজেটে থাকা ৬৫ জনের নাম বাদ পড়ে। প্রার্থীদের দাবি, বাদ পড়া বেশিরভাগের পুলিশ ও প্রশাসনিক যাচাই সম্পন্ন হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে পরস্পরবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য ও গুজবের ভিত্তিতে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

৪৪তম বিসিএসে যাচাইসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০ জনকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পররাষ্ট্র ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া একজন প্রার্থীও রয়েছেন।

অন্যদিকে, চিকিৎসকদের জন্য নেওয়া ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ২৩ জন প্রার্থী গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন। তাদের মধ্যে একটি মেডিকেল কলেজেরই ১৫ জন রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচিত সরকারের ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের যাচাইসংক্রান্ত জটিলতা সরকারের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়েছে। তবে ৪৩তম, ৪৪তম ও ৪৮তম বিসিএসের গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয়ে বর্তমান সরকারের ছয় মাস পার হলেও দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

প্রার্থীরা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক তকমা ও অনিশ্চয়তা দূর করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানান। এতে তাদের চূড়ান্ত নিয়োগের পথ খুলবে এবং তারা দেশের সেবায় যোগ দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad