মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার গঠনের পর গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে বিদেশের শ্রমবাজারে আরও ভালো ফলাফল দেখা যাবে। তবে শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, বিদেশগামীদের অবশ্যই দক্ষ হয়ে যেতে হবে। অদক্ষ লাখো কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে দেশের কোনো লাভ হবে না।’
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনে সুবিধা দিতে ট্রলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং প্রবাসীকল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় মন্ত্রী বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ও ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিমানবন্দরে তাদের জন্য দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। এ জন্য ইতোমধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ফ্লাইট বিলম্বে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সময়সূচির বিপর্যয় কিংবা ফ্লাইট বিলম্বের কারণে অনেক সময় প্রবাসী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বিমানবন্দর শহর থেকে দূরে হওয়ায় এ পরিস্থিতিতে তাদের থাকা ও খাওয়ার সমস্যাও বেড়ে যায়। এসব ভোগান্তি কমাতে বিমানবন্দরের পাশে একটি রেস্টহাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা বা বিলম্বের সময় যাত্রীরা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের আইনি সহায়তা জোরদার করার বিষয়টিও উঠে আসে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। মন্ত্রী প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


