ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে মার্কিন জবাবে কী বলা হয়েছে বা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু জানাননি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবটি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে দেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার কাছে জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘চুক্তিটি বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেব। এখন চুক্তিটি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক কৌশলের ভিত্তিতে হতে হবে।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফর শেষে আরাগচি ইরানে ফেরার পর মন্ত্রিসভার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা ছাড়াও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের আগেই আরাগচি ও তার প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়তে হয়েছিল বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে তারা নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন।
নিউইয়র্ক সফর ও সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন আরাগচি। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তও ছিল। মোহাজেরানি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আরাগচি গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় করলে এবং ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ অন্যান্য শর্ত মেনে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইরান ‘ভীষণভাবে হেরে যাচ্ছে’ বলেই চুক্তি করতে চাইছে এবং তাদের প্রস্তাব ‘গ্রহণযোগ্য হবে না’। এরপরও যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের সামরিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার নতুন করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে থাকা ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরান সরকারের ‘গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংযোগ’ বিচ্ছিন্ন করাই এ অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর আগেই চাপের মুখে থাকা ইরানের অর্থনীতি সংঘাত শুরুর পর আরও বিপর্যস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দাম রেকর্ড পর্যায়ে নেমে যায়। তেহরানের বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২৫ লাখের বেশি রিয়াল লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর মাত্র ২৭ দিন আগে, ২ সেপ্টেম্বর, ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দাম ২২ লাখে নেমেছিল। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির মুদ্রা একের পর এক নতুন নিম্নমুখী রেকর্ড গড়ছে।
বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দ্রুত চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এটি খুব শিগগিরই শেষ হবে।’
সংঘাত শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। তবে পরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত যুদ্ধ চলতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে ওষুধের দামও দ্রুত বাড়ছে এবং কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির ওষুধশিল্প চাপে পড়েছে। কিছু ওষুধের দাম তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


