ফাঁসি হলেও আওয়ামী লীগই করব: সাবেক এমপি সাবিনা তুহিন

ফাঁসি হলেও আওয়ামী লীগই করব: সাবেক এমপি সাবিনা তুহিন
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ করার অপরাধে যদি আমার ফাঁসি হয়, হোক। আমরা আওয়ামী লীগই করব। জেল কত খাটাবেন? আমরা রাজনীতি করছি, হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আওয়ামী লীগ করা অপরাধ নয়, এটি আমার গণতান্ত্রিক অধিকার সাংবিধানিক অধিকার।’

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চার্জ গঠনের শুনানির জন্য আদালতে আনা হলে শুনানি না হওয়ায় কারাগারে নেওয়ার পথে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার বিকালে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী আদালতে উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি হয়নি।

পরে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আগামী ১৫ অক্টোবর চার্জ গঠনের শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ আলম শাহীন।

সাবিনা আক্তার তুহিন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা নিরাপরাধ তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ করি, রাজনীতি করা আমার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার।’

আরও পড়ুন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ১৪ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই মামলায় পলাতক ২৬১ আসামিকে আদালতে হাজির হতে গত ১৪ অক্টোবর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ১১ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি চলছিল। দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে বদলি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী অংশ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেশবিরোধী বক্তব্য দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন। পরে ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad