সিরাজগঞ্জে সরকারি কর্মসূচিতে জিংকসমৃদ্ধ ধান অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

সিরাজগঞ্জে সরকারি কর্মসূচিতে জিংকসমৃদ্ধ ধান অন্তর্ভুক্তির আহ্বান
ছবি: সৌজন্য
Advertisement
Advertisement

খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে জিংকসমৃদ্ধ ধানসহ বায়োফর্টিফায়েড ফসল অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জে ‘সরকারি কর্মসূচিতে বায়োফর্টিফায়েড ফসলের অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক অ্যাডভোকেসি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মাল্টি-সেক্টোরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (এমএআইএন) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। হারভেস্টপ্লাস সলিউশনস বাংলাদেশ, সিরাজগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সহযোগিতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) গণপতি রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা এবং সিভিল সার্জন মো. নুরুল আমিন।

এ সময় হারভেস্টপ্লাস সলিউশনস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. ওয়াহিদুল আমিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মোজিবার রহমানসহ কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে আবাদি জমি কমছে এবং জনসংখ্যা বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ জাত যেমন ব্রি ধান ১০০ ও ব্রি ধান ১০২ উত্তরাঞ্চলে চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। জিংকসমৃদ্ধ ধান মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীরে প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মেধাগত বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন

কর্মশালায় হারভেস্টপ্লাস সলিউশনসের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. ওয়াহিদুল আমিন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্কুল ফিডিংসহ অন্যান্য সরকারি উদ্যোগে জিংকসমৃদ্ধ খাদ্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনার প্রস্তাব দেন। বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ সরকারি কর্মসূচিতে বায়োফর্টিফায়েড ধান ও অন্যান্য ফসল অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

বিশেষ অতিথি এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, বায়োফর্টিফায়েড ফসলের সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস প্রচার করছে। সিরাজগঞ্জে হারভেস্টপ্লাস সলিউশনসের সঙ্গে আরও কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

কর্মশালায় বায়োফর্টিফায়েড ফসলের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা উন্নয়নে এর ভূমিকা এবং বাংলাদেশে এমএআইএন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মোজিবার রহমান।

এ সময় জিংকসমৃদ্ধ ধানের বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, সরকারি খাদ্য সংগ্রহে এ ধরনের ধান অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা, বাজার উন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে বায়োফর্টিফায়েড ফসলের সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) আনোয়ার সাদাতের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

এমএআইএন প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের আমন মৌসুমে সিরাজগঞ্জের ৮০০ কৃষককে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জিংকসমৃদ্ধ ধানের বীজ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ৫ কেজি করে বীজ দেওয়া হয়। এছাড়া পাঁচটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, ৪৮ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার জন্য প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং ২৬ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ভ্যালু চেইন অ্যাক্টরস সভা আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী বোরো মৌসুমে এই প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জে তিন হাজার ৬০০ কৃষকের কাছে জিংকসমৃদ্ধ ধানের বীজ পৌঁছে দেওয়া এবং ২০টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad