সাভারে ডিবি পরিচয়ে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ২

সাভারে ডিবি পরিচয়ে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ২
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

সাভারে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে বাসায় ঢুকে কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে করা মামলায় জিয়া প্রজন্ম দল নেতা ও এক ছাত্রদল কর্মীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি স্ট্যাম্প ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- জিয়া প্রজন্ম দল, সাভার পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল (২৩)। সে বর্তমানে সাভার থানা রোডের মুক্তির মোড় এলাকার বাসিন্দা।  এবং ছাত্রদল কর্মী মো. রাসেল ওরফে রোহান (২২)। সে সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী এলাকার বাসিন্দা।

পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে সাভারের বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাব্বি খান (২৩) বাদী হয়ে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয়।

বাকি আসামিরা হলেন, সাভার পৌরসভার ব্যাংক কলোনী এলাকার করিম মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ ওরফে আবুল্লাহ (২২), একই এলাকার মো. হিরা (২৪) ও নাজমুল (২০)।

আরও পড়ুন

অভিযুক্তরা প্রত্যেকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হানিট্র্যাপে ফাঁসানো, মাদক ব্যবসায়ী ও ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অসুস্থ বন্ধু সঞ্জয় মণ্ডলকে দেখতে তার সাভার পৌরসভার কাজী মোকমাপাড়া এলাকার বাসায় যান মামলার বাদী মো. রাব্বি খান (২৩)। রাত সোয়া নয়টার দিকে রাসেল ওরফে রোহান ওই বাসায় গিয়ে দরজায় নক করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন।
জানা গেছে, বাসায় ঢোকার পর তাঁরা বিভিন্ন জিনিসপত্র তল্লাশি করেন এবং রাব্বি ও তার বন্ধুদের ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে দাবি করা হয়।

এ সময় আশরাফুল কোমর থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু বের করে জিম্মি করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে বাদী ও তার বন্ধু রাকিব মিয়ার কাছ থেকে চারটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই স্ট্যাম্পে তাদের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পরে রাব্বিকে ছাড়িয়ে নিতে তার চাচাতো ভাই জাকির ও বন্ধু জুনায়েদ সেখানে গেলে তাদের কাছেও মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। এরপর এটিএম বুথ থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে এবং সঙ্গে থাকা আরও ৯ হাজার টাকাসহ মোট ২৯ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে অভিযুক্তরা।
এ ছাড়া বাদীর মুঠোফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা এবং তাঁর বন্ধু সঞ্জয়ের নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০ টাকা এবং সঞ্জয়ের ফোন হাতিয়ে নেয় মামলার আসামিরা।

এ ঘটনায় রাব্বি খান পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad