যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ‘বুসান চুক্তির’ মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। ১০ নভেম্বর চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন তা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
চুক্তিটি দুই দেশের ওপর আরোপিত কঠোর শুল্ক থেকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছিল। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লাইফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বেসেন্ট। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট কয়েকটি চুক্তির বদলে বড় কোনো চুক্তি করা যায় কি না, তা দেখতে আমরা বৈঠক করেছি।’
এদিকে তিন দিনের সফরে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন শি। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই নেতার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিমানঘাঁটিতে শি ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। লালগালিচায় দুই দম্পতি করমর্দন করেন। পরে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প ও শি পাশাপাশি হাঁটেন। তারা গান স্যালুট ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়ান।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে এক বিবৃতিতে শি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া তার বক্তব্য তুলে ধরে জানায়, ‘চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ ও আমেরিকাকে আবার মহান করার লক্ষ্য পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে, একে অপরের পরিপূরক হতে পারে এবং বিশ্বকে উপকৃত করতে পারে।’
চীনা পণ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ে। জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেয় বেইজিং। তবে শির সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্কের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প।
শির সফরে প্রযুক্তি খাতের নেতাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, হোয়াইট হাউসে সামরিক অনুষ্ঠান ও জাতীয় আর্কাইভ পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সফরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিরল খনিজ ও তাইওয়ান নিয়েও আলোচনা হতে পারে।


