কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আইনজীবী হিসেবে লড়বেন না। মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ এ কথা জানান।
তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো লিখিত রেজুলেশন হয়নি। ঘটনার নির্মমতার প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আইনজীবীদের মধ্যে এমন একটি নীতিগত অবস্থান তৈরি হয়েছে। তবে আসামিদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্টেট ডিফেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে।
সভায় কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির পিপি কাইমুল হক রিংকু দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক অভিযোগপত্র দাখিলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিচার আবেগের ভিত্তিতে নয়, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হবে।
উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। কোনো অপরাধচক্র বা পৃষ্ঠপোষকের সম্পৃক্ততা থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়াও উল্লেখিত আসামিদের বয়স নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে তা নির্ধারণের কথাও বলেন তিনি।
অপ্রতিমকে বিভিন্নভাবে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তার মা নাহিদা বেগম। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনের সময় মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তার ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকলে তিনি তা মেনে নেবেন না।
‘আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে? আমার ছেলেকে কেন মেরে ফেলা হলো?’ বলেন তিনি।
সভায় শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা আসামিদের বয়স যাচাই, প্রয়োজনে ‘অসিফিকেশন টেস্ট’, লালমাই ও সালমানপুর এলাকায় সিসিটিভি বসানো ও আলোকসজ্জা বৃদ্ধি এবং কোটবাড়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
সভা শেষে উপাচার্য জানান, বিচারপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


