প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
বুধবার বিকালের দিকে গুলশানে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিবিড় করতে একটি যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনে আগ্রহ জানিয়েছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
রাষ্ট্রদূত জানান, নভেম্বর মাসের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের জন্য এই ফোরামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশন থাকবে।
বৈঠকে এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক এবং মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেন। এর জবাবে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয় পর্যালোচনা করছে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া সেখানে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে। কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দিয়েছে বলেও জানান তিনি। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, যৌথ উদ্যোগে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।
পৃথক এক বৈঠকে এফবিসিসিআই প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি। তিনি জানান, আগামী বছরের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি কলম্বোতে ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানালে প্রশাসক মো. ফজলুল হক এতে ইতিবাচক সাড়া দেন।
উভয় বৈঠকে এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীরসহ রাশিয়ান দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


