মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষোভে সাংবাদিকের বাসায় গুলি

মাদক সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষোভে সাংবাদিকের বাসায় গুলি
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের সদস্য মো. আতিক ওরফে চোরা আতিককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৪)।

বুধবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, আতিক ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গুলিবর্ষণের কারণ সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘ভইরা-দে’ বা ‘আশিক গ্রুপের’ বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রুপটির মূল হোতা আশিকের নির্দেশে তার সহযোগীরা সাংবাদিকের পল্লবীর বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি বলেন, গ্রুপটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পল্লবীর সবুজ বাংলা, বাউনিয়াবাঁধ, এভিনিউ-৫ ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

একই অভিযানে পল্লবীর তালতলা বস্তি এলাকা থেকে আতিকের সহযোগী রবিনের মা মোছা. ডলি বেগমকে (৪৫) ৭৪৫টি ইয়াবা বড়ি ও ১৫ গ্রাম ইয়াবার গুঁড়াসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন হাফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ১৪ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে পল্লবীর সবুজ বাংলা এলাকায় এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক প্রান্ত পারভেজের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের দাবি, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি তার বাসায় এসে তাকে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করেন তিনি।

ঘটনার পর এসআরবি-৪ এর একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে রবিন (২২) নামে একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে পল্লবীর তালতলা বস্তি এলাকায় রবিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার মা ডলি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে রবিন পালিয়ে যান।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এসআরবি জানায়, আতিককে জিজ্ঞাসাবাদে রবিন, ইব্রাহিম, শাহিন ওরফে শুটার শাহিন (২৫) ও আল আমিনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। পরে পল্লবীর সেকশন-১১, এভিনিউ-৫ এলাকায় অভিযান চালানো হলে এসআরবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকার একটি টিনের ঘরের পেছন থেকে একটি খালি ম্যাগাজিন, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া একই রাতে পল্লবী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য মো. নিলয় সুজনকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি ধারালো রামদা ও এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে এসআরবি।

আশিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক বলেন, শুধু আশিক নয়, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad