চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশিসহ গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক মহসিনকে কোকেন মামলায় একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। একই সঙ্গে আইসিটি আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে পুলিশের চাওয়া গ্রেপ্তার আবেদনের শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. মহিদুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-প্রসিকিউশন) ভারপ্রাপ্ত মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট জমা রাখা মোহাম্মদ মহসিনকে আইসিটি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে কোকেন মামলায় তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
মহসিনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি একটি আটতলা ভবন তাদের ভাড়া করে দেন। মহসিনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মহসিন কয়েক দিন আগে কুরিয়ারে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেগুলো ফেরত আসে। সেই কোকেনের তথ্য খুঁজতে গিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়। মহসিনকে কোকেনের মামলায় ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে একই আদালত ৬৩ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে একজন শিশুকে বাদ দিয়ে বাকি ৬২ জনকে মামলায় আসামি হিসেবে দেখানোর নির্দেশ দেন। ওই ৬২ বিদেশি ও তাদের সহযোগী বাংলাদেশি নাগরিক মহসিনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলায় ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
১১ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশ। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে। শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রামে একটি ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট দেড় মাস ধরে ভাড়া নিয়ে তারা থাকছিলেন। ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন তারা। এ কাজে তাদের দেশীয় একটি চক্র সহায়তা করেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।


