বিয়েতে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং সরকারি পরিচয়পত্রের তথ্য উল্লেখ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
একটি রিটের শুনানি করে সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রিট দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও তানজিলা রহমান।
রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে বলা হয়, বর্তমানে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’ কাবিননামায় বর ও কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান এবং আগের সম্পর্ক থেকে সৃষ্ট ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
আবেদনে বলা হয়, বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিসি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও তার আগের সব বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখের বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ের সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা নেই।
রিটে আরও বলা হয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের আইনগত অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনের উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান বিয়ের সন্তানদের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত ও যাচাইযোগ্য করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, এসব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে কাবিননামা হালনাগাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে নাগরিকদের পারিবারিক জীবন ও অধিকার সুরক্ষায় কাবিননামার সংশ্লিষ্ট ফরম সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।


