নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর: আরও জটিল নিরাপত্তাবলয়ে বাংলাদেশ

নাইন ইলেভেনের ২৫ বছর: আরও জটিল নিরাপত্তাবলয়ে বাংলাদেশ
ফাইল ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলা বৈশ্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের রূপ পাল্টে যায় এবং সন্ত্রাসবাদ, অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তাকে দেশগুলো কীভাবে দেখে, তাতেও মৌলিক পরিবর্তন আসে। ২৫ বছর পর বিশ্ব এখন ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আঞ্চলিক সংঘাত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তাঝুঁকির আরও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রম ও মাসুদ বিন মোমেন এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রাজ্জাকের মতে, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, বহুমুখী অংশীদারত্ব, শক্তিশালী কূটনীতি ও উন্নত নিরাপত্তাসক্ষমতার সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

নাইন ইলেভেন হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে টাইমস আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনায় সাবেক এই তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ওই হামলায় নিহত প্রায় তিন হাজার মানুষের কথা স্মরণ করা হয়, যাদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশিও ছিলেন। উদ্ধারকাজের সঙ্গে সম্পর্কিত আঘাত ও অসুস্থতায় পরে মারা যাওয়া কয়েক শ উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবাকর্মীকেও স্মরণ করা হয়।

নাইন ইলেভেন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভারসাম্য

নাইন ইলেভেন  হামলার এক মাসের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব নেওয়া এবং পরে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শমসের মবিন চৌধুরী হামলার পর বাংলাদেশকে যে তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল, তা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, এই হামলা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ওপর বিশেষভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় ক্রমেই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামকে যুক্ত করা হচ্ছিল।

হামলার পরের কঠিন কূটনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেক বিবেকবান মানুষ এ ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এমন ঘটনার কোনো যুক্তিই থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, শুরুতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা অংশীদারদের বোঝাতে হয়েছিল যে এটি একটি মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ এবং উগ্রপন্থার হুমকির উৎস নয়।

নাইন ইলেভেনের অল্প সময় পর তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ওয়াশিংটন সফর করেন। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রধান প্রশ্ন ছিল, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক অভিযানে বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শুরু করে। তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বহুল আলোচিত ঘোষণা দেন, দেশগুলো হয় ‘আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে’।

তবে ঢাকার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল সন্ত্রাসবাদের দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘের অনুমোদনবিহীন সামরিক অভিযানে জড়িয়ে না পড়া।

শমসের মবিন চৌধুরী স্মরণ করেন, ২০০২ সালের শুরুর দিকে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার আকস্মিকভাবে ঢাকা সফরে আসেন। এর আগেই বাংলাদেশ আলোচনা করে রেখেছিল, আফগানিস্তান বা অন্য কোথাও সামরিক অভিযানে সহায়তা চাওয়া হলে কীভাবে সাড়া দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই, দেশের সীমানার বাইরে এমন কোনো সামরিক অভিযানে বাংলাদেশ কখনো অংশ নেবে না।’

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের আগে বাংলাদেশের এই অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ ওই অভিযানে সামরিকভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। তবে কঠোর শর্তে চিকিৎসার জন্য কাউকে সরিয়ে নেওয়া এবং উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের মতো কাজে ঢাকা বিমানবন্দর সীমিতভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, চাপ ছিল ‘প্রচণ্ড’। তারপরও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু ইরাক বা আফগানিস্তানে আপনাদের অভিযানে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখবে—এমনটি আশা করবেন না।’

তার মতে, নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার সক্ষমতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এতে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব ফুটে ওঠে।

প্রচলিত যুদ্ধ থেকে বিস্তৃত নিরাপত্তাকাঠামো

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাসুদ রাজ্জাক নাইন ইলেভেনকে একটি ‘ভূরাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা নিরাপত্তা নিয়ে সরকারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, ওই হামলা দেখিয়ে দিয়েছিল যে একটি অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।

মাসুদ রাজ্জাক বলেন, ‘এটি প্রচলিত নিরাপত্তাকৌশলের মানসিকতা থেকে অপ্রচলিত নিরাপত্তার দিকগুলোতে মনোযোগ দিতে বাধ্য করেছিল।’

এরপর গোয়েন্দা কার্যক্রম, সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং আন্তসীমান্ত তথ্য বিনিময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তানীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

তার মতে, সরকারগুলো এটিও উপলব্ধি করে যে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যায় না।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ গভীরভাবে শিকড় গেড়ে থাকলে সামরিক বাহিনী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে পারে। কিন্তু উগ্রবাদ ও অন্যান্য বিষয় মোকাবিলায় একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।’

ফলে নাইন ইলেভেন পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা সহযোগিতা, আর্থিক নজরদারি, তথ্য বিনিময় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বেড়ে যায়।

এসব পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। মাসুদ রাজ্জাক বলেন, উদীয়মান অপ্রচলিত হুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করেছে এবং নিরাপত্তা ও শিক্ষাব্যবস্থার কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, গত ২৫ বছরে এসব হুমকির ধরন নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।

প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ, অনলাইনে উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়া, সাইবার হুমকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থায়ন নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ভূরাজনৈতিক পরিবেশও বদলে গেছে। স্নায়ুযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক একক আধিপত্যের জায়গায় এখন বড় শক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার যুগ শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও চলছে।

বাংলাদেশের জন্য ভৌগোলিক বাস্তবতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাসুদ রাজ্জাক বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী শান্তিতে না থাকলে আমার পক্ষেও শান্তিতে থাকা খুব কঠিন। কারণ, এর প্রভাব আমার ওপরও পড়বে।’

তার মতে, শান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও কূটনীতি

সাবেক কর্মকর্তারা একমত হন যে প্রতিবেশী অঞ্চলের ঘটনাপ্রবাহ কিংবা বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশ নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারে না।

শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ঢাকাকে নিজের জাতীয় সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে এবং বাস্তবসম্মত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের সামর্থ্যের চেয়ে বেশি শক্তি দেখাতে পারি না। পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক কৌশলে সক্রিয় হওয়ার চেয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতেই আমরা বেশি বাধ্য।’

তিনি কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।

তার মতে, বাংলাদেশের শক্তির একটি দিক হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ।

ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মুসলিম, ইহুদি, হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে আন্তঃধর্মীয় উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেন তিনি।

শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। তবে সেটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে কূটনীতিকেই প্রতিরক্ষার প্রথম সারিতে থাকতে হবে।’

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকাও তুলে ধরেন তিনি। এটিকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক অবদান হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংস্থাটির বর্তমান দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ জানান।

মাসুদ রাজ্জাকও বহুমুখী অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং বহুমুখী অংশীদারত্ব থাকতে হবে। টিকে থাকার জন্য আমাদের একটি মাত্র পথের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।’

তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যোগাযোগব্যবস্থা, সমুদ্র ও সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষার পক্ষে মত দেন।

তিনি বলেন, সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষাসামর্থ্যও গড়ে তোলা উচিত।

মাসুদ রাজ্জাক বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতি পথনির্দেশক হিসেবে বহাল রাখা উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে নিজস্ব পথ বেছে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষাসক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

নাইন ইলেভেন ও অভিবাসনের নিরাপত্তাকরণ

আলোচনার সঞ্চালক সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন নাইন ইলেভেনের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দেন। সেটি হলো বৈশ্বিক অভিবাসননীতির রূপান্তর।

তিনি বলেন, অভিবাসনকে আগে প্রধানত অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হতো। কিন্তু হামলার পর এটি ক্রমেই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে পরিণত হয়।

এর ফলে প্রধান গন্তব্য দেশগুলোতে ভিসাব্যবস্থা কঠোর হয়েছে, বায়োমেট্রিক যাচাই, ভ্রমণকারীদের গতিবিধি অনুসরণ ও তথ্য বিনিময় বেড়েছে এবং বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হয়েছে।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘অভিবাসন ও নিরাপত্তার মধ্যকার সম্পর্ক দেশগুলো কীভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে, ভ্রমণকারীদের গতিবিধি অনুসরণ করে এবং বিদেশি নাগরিকদের দেখে, তা স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণ অভিবাসন বন্ধ করতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘অভিবাসন বন্ধ হবে না, শুধু এর ধরন বদলাবে।’

বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং বিদেশে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার চাহিদাও অব্যাহত আছে। এ কারণে বিষয়টি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বৈধ অভিবাসনের পথ সংকুচিত হলে বাংলাদেশের তরুণেরা মানব পাচার, শোষণ ও অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিতে আরও বেশি পড়তে পারেন।

মাসুদ বিন মোমেন শরণার্থীদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের সুযোগ কমে যাওয়া এবং ধনী গন্তব্য দেশগুলোর শরণার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব তৃতীয় দেশে সরিয়ে দেওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার কথাও তুলে ধরেন।

বৃহত্তর এই প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তিনি ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবস্থা, অস্ট্রেলিয়া ও নাউরুর ব্যবস্থা এবং যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত রুয়ান্ডা মডেলের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গ্লোবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিবাসন কূটনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক চলাচলে নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশকে কাজ করে যেতে হবে।

আরও অনিশ্চিত বিশ্ব

নাইন-ইলেভেনের ২৫ বছর পর বিশ্ব ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ তাৎক্ষণিক কাঠামো থেকে অনেক দূর এগিয়েছে। বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আঞ্চলিক সংঘাত, সাইবার হুমকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অভিবাসনের চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন প্রচলিত নিরাপত্তা উদ্বেগের সঙ্গে মিলেমিশে গেছে।

বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য এর সমাধান কোনো বিচ্ছিন্নতা কিংবা একটি নির্দিষ্ট শক্তির সঙ্গে এককভাবে যুক্ত হওয়ার মধ্যে নেই।

এর পরিবর্তে ঢাকার প্রয়োজন শক্তিশালী কূটনীতি, বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষাসামর্থ্য, কার্যকর গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সহনশীলতা এবং আরও বেশি আঞ্চলিক সহযোগিতা।

শমসের মবিন চৌধুরী আলোচনার সারমর্ম তুলে ধরে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশকে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।

মাসুদ রাজ্জাক নিরাপত্তাকে সামগ্রিকভাবে বোঝার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে মাসুদ বিন মোমেন সতর্ক করে বলেন, মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে গিয়ে অভিবাসীদের অধিকার ও বৈধ সুযোগ ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

তাদের বার্তা ছিল স্পষ্ট—৯/১১-পরবর্তী বিশ্ব আরও নিরাপদ বা সহজ হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ের পথ পাড়ি দিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন, জাতীয় ঐকমত্য এবং বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় সক্ষমতায় সমর্থিত কূটনীতি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর