কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেলসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুলিশ পরিচয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যাংকের তিনটি চেক বই ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার রাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সৈকতপাড়া এলাকা থেকে জিয়াবুল হক (৩২) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি সৈকতপাড়ায় থাকছিলেন। সেখানে তার ‘আবরার এন্টারপ্রাইজ’ নামে মোবাইল ব্যাংকিং ও মোবাইল এক্সেসরিজের দোকান রয়েছে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গত ২৬ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরের পর্যটন জোনের বিভিন্ন হোটেল-মোটেল ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। এ সময় তারা হোটেল সীগাল, সাম্পান, কক্স টুডেসহ অন্তত ১০টি অভিজাত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।
ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘শহরের পর্যটন জোন এলাকায় পুলিশ বক্স স্থাপনের কথা বলে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে টাকা দাবি করে চক্রটি। এ অজুহাতে তারা বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে গত ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী হোটেল সীগাল কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে বুধবার রাতে সৈকতপাড়া থেকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিয়াবুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ভিন্ন হিসাব নম্বরের তিনটি ব্যাংক চেক বই ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।’
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার জিয়াবুল সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত। ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।


