উপশাখা ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ৫.৭%, ঋণ কমেছে ৭.৭%

উপশাখা ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ৫.৭%, ঋণ কমেছে ৭.৭%
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দেশের উপশাখা ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে উপশাখার মাধ্যমে সংগৃহীত আমানত সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। বিপরীতে ঋণ বিতরণের গতি ধরে রাখতে পারেনি ব্যাংকগুলো।

জুন শেষে উপশাখাগুলোতে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা, যা মার্চ শেষে ছিল ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, উপশাখার মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ ও অগ্রিম কমে জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকায়, যা মার্চ শেষে ছিল ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ঋণ কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অথচ একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতে ঋণ ও অগ্রিম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

ফলে ব্যাংকিং কার্যক্রমে উপশাখার অবদান আমানতের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হয়েছে। মোট ব্যাংক খাতের আমানতে উপশাখার অংশ মার্চের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে জুনে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। তবে মোট ঋণে তাদের অংশ ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে।

উপশাখা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কারণে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবার আওতাও বেড়েছে। জুন শেষে দেশে উপশাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩৩টি, যা মার্চে ছিল চার হাজার ৯৯২টি। তিন মাসে ব্যাংকগুলো ৩০টি গ্রামীণ ও ১৯টি শহুরে উপশাখা চালু করেছে। একই সময়ে আটটি উপশাখা বন্ধ বা অন্য শাখা কিংবা উপশাখার সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে।

উপশাখাগুলোতে আমানত হিসাবের সংখ্যাও বেড়েছে। জুন শেষে হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ ৭০ হাজার, যা মার্চে ছিল ৮৪ লাখ ৭০ হাজার। অর্থাৎ তিন মাসে হিসাব বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

এই ব্যাংকিং খাতে নারীদের অংশগ্রহণেও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জুন শেষে উপশাখার আমানত হিসাবের ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারীদের নামে ছিল, মার্চের পরিসংখ্যানে এই হার ছিল ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে মোট উপশাখা আমানতে নারীদের অংশ সামান্য কমে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।

আরও পড়ুন

উপশাখার মাধ্যমে ঋণ পাওয়ার প্রবণতা উল্লেখিত তিন মাসে দুর্বল হয়েছে। ঋণ হিসাবের সংখ্যা মার্চের দুই লাখ ৫৩ হাজার ৫১২টি থেকে কমে জুনে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ১০টি। অর্থাৎ ঋণ হিসাব কমেছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

উপশাখার ঋণ হিসাবের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল নারীদের নামে, মার্চে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। একই সময়ে উপশাখার মোট ঋণের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণ ১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

গ্রামীণ এলাকাগুলোতে উপশাখার বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। জুন শেষে মোট উপশাখার ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল গ্রামে, যা মার্চে ছিল ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রামীণ গ্রাহকদের আমানতের অংশও বেড়েছে। জুন শেষে উপশাখার মোট আমানতের ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ এসেছে গ্রামীণ এলাকা থেকে, যা মার্চে ছিল ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে উপশাখার মোট ঋণের মধ্যে গ্রামীণ গ্রাহকদের অংশ ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উপশাখা নেটওয়ার্কে এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। সবচেয়ে বেশি এক হাজার ২২৪টি উপশাখা পরিচালনা করছে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি। এরপর ৬৮৮টি উপশাখা নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি ৩৫০টি, পূবালী ব্যাংক পিএলসি ২৮১টি এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উপশাখা ২৭১টি।

এ ছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ২৩৮টি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি ১৯৬টি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ১৭৮টি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ১৫৪টি এবং ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি ১১৭টি উপশাখা পরিচালনা করছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি উপশাখা রয়েছে ঢাকায়। রাজধানীতে উপশাখার সংখ্যা এক হাজার সাতটি। এরপর চট্টগ্রামে ৪৭০টি, কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি এবং গাজীপুরে ১৬৮টি উপশাখা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালে প্রথম ব্যাংকিং বুথ চালুর অনুমতি দেওয়ার পর উপশাখা কাঠামো চালু করে। ২০১৯ সালে ব্যাংকিং বুথগুলোকে উপশাখা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালে এ বিষয়ে পরিচালন নির্দেশনা জারি করা হয়।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপশাখাগুলো ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ ও আমানত সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তুলনায় ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এখনো ব্যাংকগুলো সফল হতে পারেনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর