সাভারের আশুলিয়ায় জামগড়ার আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার পর পিবিআই একজনকে গ্রেপ্তার করে প্রয়োজনীয় আলামত উদ্ধার করে।
তদন্তের জন্য তার পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না জানিয়ে বলেন, তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
নিহত তিনজন হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়পুকুরিয়া গ্রামের নাজমা খাতুন (৩৯), তার স্বামী আলমগীর কবির (৪৫) এবং তাদের সন্তান। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার স্বামী আলমগীর পান-সিগারেট বিক্রি করতেন।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকালে কারখানা ছুটির পর নাজমা ও তার স্বামী আলমগীর বাসায় ফেরেন। পরে আলমগীরের ডাকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বাসায় যান। সেখানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তিনজনকে হত্যা করে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভিন বলেন, আশুলিয়ার এ ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীর ওই ব্যক্তিকে মারধর ও সতর্ক করার জন্য ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে তিনজনকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং এতে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন দিয়ে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার তালা ভেঙে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।


