চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে অভিযান

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার অভিযোগে অভিযান
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ ও পাহাড়ের ঢালে নির্মাণকাজের বিষয়ে রাতভর সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে অভিযানের সময় কোথাও কাউকে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। একটি এলাকায় পাহাড়ের ঢালে সদ্য নির্মিত কিছু দেয়াল পাওয়া গেছে।

সোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন চালানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ ও পুলিশের সমন্বয়ে দলটি নগরের বায়েজিদ বোস্তামী ও আকবর শাহ থানার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখে।

পরিদর্শন দলের সদস্যরা বায়েজিদ বোস্তামী থানার ‘রুপসী’ নামের পাহাড়, আকবর শাহ থানার উত্তর পাহাড়তলী মৌজার ১৭৭, ১৭৮, ১৮৯ ও ১৮০ নম্বর দাগে থাকা পাহাড় এবং হারবাতলী মা আমেনা মসজিদসংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তর পাহাড়তলী মৌজার ওই চার দাগে থাকা পাহাড়ের ঢালে কিছু দেয়াল সদ্য নির্মাণ করা হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে এ ধরনের নির্মাণকাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমিমালিককে সোমবার সকালে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাতে পরিদর্শনের সময় সেখানে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

পরে হারবাতলী মা আমেনা মসজিদসংলগ্ন পাহাড় পরিদর্শন করা হয়। সেখানে পাহাড় কাটার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ওই স্থানেও পাহাড় কাটার কাজে কাউকে নিয়োজিত অবস্থায় দেখা যায়নি।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ‘রুপসী’ পাহাড়েও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে রাতের অভিযানে কাউকে পাহাড় কাটতে দেখা যায়নি। তবে নির্মাণস্থলের ভূমির শ্রেণি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জায়গাটি ‘ছনখোলা’ বা ‘নাল’ শ্রেণির জমি, নাকি পাহাড়- তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড় কাটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। পাহাড় কেটে বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি পাহাড়ের ঢালে দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ঘটনাও মাঝেমধ্যে সামনে আসে। এতে বর্ষাকালে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে বলে পরিবেশবাদীরা মনে করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী শফিক আহমেদ জানান, নগরের পাহাড় ও পরিবেশ সুরক্ষায় নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কোথাও পাহাড় কাটার অভিযোগ বা পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর