তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান নম্বর রাখার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এতে দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ বলেন, ১৭ বছর পর কোটার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক সংসদ গঠিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ বিধিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ উদ্বেগের।
তিনি বলেন, ‘মেধার পরিবর্তে একটা কোটার ভিত্তি পরিচালনা করার প্রক্রিয়ার দিকে আমাদের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ধাবিত হচ্ছে।’
সংসদ সদস্যের অভিযোগ, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রক্সি পরীক্ষা ও জালিয়াতি ঠেকানোর যুক্তিতে প্রশাসনিকভাবে এ বিষয়ে উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে এ ধরনের পরিবর্তন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মাসুদ। তার মতে, এতে প্রশাসনে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
প্রস্তাবিত নম্বর বিভাজনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১১ থেকে ১২তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় আগে ১০ ও ৯০ শতাংশের যে বিভাজন ছিল, সেখানে ৫০-৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ১০ ও ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ ও ৬০ শতাংশ এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে বিদ্যমান বিভাজন পরিবর্তন করে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কোটার ভিত্তিতে না হয়ে মেধার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার জন্য এই সংসদ যেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।’
পরে এ বিষয়ে রুলিং দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংসদের চলমান কার্যক্রমে কোনো ভুল, অনিয়ম বা সংসদের নিয়ম ভঙ্গের মতো বিষয় থাকলে সদস্যরা পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে পারেন।
তবে নিয়োগ বিধি নিয়ে ওই মুহূর্তে সংসদে কোনো আলোচনা না থাকায় বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না বলে জানান স্পিকার।
তিনি বলেন, ‘সংসদ কার্যক্রমের চলমান বিষয় ছাড়া এ নিয়ে তো কোনো আলাপ-আলোচনা হচ্ছে না। নিয়োগ বিধি নিয়ে কোনো আলোচনা তো হচ্ছে না এখন সংসদে। সুতরাং এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না।’


