রাজধানীর খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলাম নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর মুক্তাকে হত্যা করে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার বাসা থেকে মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর মুক্তাকে নির্যাতনের প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিও তার ভাই তানভীর রহমানের কাছে পাঠান সোহেল। ভিডিওতে মুক্তার পায়ে শিকল পরিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধর করতে দেখা যায়। ভিডিও পাঠিয়ে সোহেল লিখেছিলেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে মুক্তার ভাইয়ের কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন সোহেল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মারধর করা হতো—এমন অভিযোগ করছেন তারা। শুধু তা–ই নয়, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে তার কলহ চলছিল। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ ও যৌতুকের জন্য সোহেল তাকে নির্যাতন করতেন এমন তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে মুক্তা নির্যাতনের কথা পরিবারকে তেমন কিছুই বলতেন না।
এ ঘটনায় তানভীর রহমান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজীব ভৌমিক বলেন, মৃত্যুর দুই দিন আগে মুক্তাকে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল দাবি করেছেন, মুক্তা নিজেই ফাঁস নিয়েছেন।


