রাজধানীর কদমতলীর শনিরআখড়া এলাকায় ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই মিঠুন মণ্ডল আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন এসআই আব্দুস ছবুর।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দক্ষিণ দনিয়া-শনিরআখড়া এলাকার একটি ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী মো. আসলাম খানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি। এতে আসলাম গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় মঞ্জুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুলিশ তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধারের দাবি করে।
এ ঘটনায় কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার মঞ্জুরুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। একই দিন তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে।
মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানিতে মঞ্জুরুলকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা যায়। তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিচারক তার কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে মঞ্জুরুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
তিনি বলেন, জসীম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার আগে মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধ ছিল। জসীম তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার পর সেটির মূল্য বাবদ ৭০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।
মঞ্জুরুল আদালতকে আরও বলেন, তিনি আসলামকে গুলি করেননি; জসীমই গুলি করেছে। তার ভাষ্য, স্ত্রী ও মেয়ের ছবি দেখিয়ে তাকে ভয় দেখানো হয় এবং তাদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে মহাখালী থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়।
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে রিমান্ড না দেওয়ার আবেদনও জানান মঞ্জুরুল। তিনি বিচারককে বলেন, তার মাথা ঘুরছে এবং তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। রিমান্ডে নিলে তার শারীরিক ক্ষতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত মঞ্জুরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।


