পদ্মা নদী একসময় স্থানীয় মানুষের জীবিকা, মাছ ধরা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ করে দিলেও এখন তা নদীপাড়ের বাসিন্দাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীভাঙনে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝিরঘাটের পাইনপাড়া এলাকার মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি ও দোকানপাট বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়েছে ওই এলাকার বেশ কিছু ঘরবাড়ি। কোথাও নদীর কিনারায় তৈরি হয়েছে নতুন ভাঙন, কোথাও আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এর আগেও গেল বছর মাঝিরঘাট-পাইনপাড়া এলাকায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে নদীতীর রক্ষাবাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে ঘরবাড়ি হারায় বহু পরিবার।
চলমান ভাঙনের মধ্যে নদীপাড়ের মানুষের জন্য নতুন আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এমনিতেই নদীর তীর ভাঙনপ্রবণ, তার ওপর এভাবে বালু তোলায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিন মাঝি বলেন, ‘আমরা নদীভাঙনের কারণে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। এর মধ্যে রাতে নদী থেকে বালু তোলার ঘটনা আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা সামাদ মাঝি বলেন, ‘ভাঙনে ইতিমধ্যে অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। আমাদের দাবি, নদীভাঙন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হোক।’
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতভিটার পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক, কৃষিজমি, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ প্রশাসন জানায়, অনিয়ম বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। আইন অমান্য করে বালু তুললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের দাবি, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে প্রশাসন রয়েছে। তাদের সহায়তার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে সাময়িক সাহায্যের বদলে নদীভাঙন রোধে বৈজ্ঞানিক ও স্থায়ী পদক্ষেপ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি চান মাঝিরঘাটের পাইনপাড়া এলাকার বাসিন্দারা।


