পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে দুই শতক বসতভিটা ও গবাদি পশু বিক্রি করে লেবাননে গিয়েছিলেন শুভ দাস। ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহতের ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরল তার মরদেহ।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে শুভ দাস (২৩)। পরিবারের আর্থিক সংকট লাঘব ও বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় প্রায় আড়াই বছর আগে লেবাননে যান তিনি।
শুভর বিদেশযাত্রার খরচ জোগাতে পরিবারটি তাদের দুই শতক বসতভিটা ও গবাদি পশু বিক্রি করে এবং ঋণ নেয়। কিন্তু গত ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন শুভ। এরপর তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রোববার সকাল ১০টার দিকে শুভর মরদেহ তার নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো শুভকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। বিকালে নিজ গ্রামে দাহকার্য সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ ছিলেন দ্বিতীয়। পরিবারের আশা ছিল, বিদেশে কাজ করে তিনি সংসারের অভাব দূর করবেন। সেই আশা আর পূরণ হয়নি।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় খুলনাস্থ ওয়েজ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সহকারী পরিচালক মইন উদ্দীন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিহত শুভর পরিবারের হাতে ৮৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে জীবনবীমার আওতায় পরিবারের জন্য আরও আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শুভর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার মরদেহ সৎকারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ১১ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলে নিহত হন তিন বাংলাদেশি–শফিকুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও শুভ দাস।
এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ এর আগে দেশে ফেরত আসে।


