দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সব গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেই এই সুপারিশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব রেখে সোমবার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সই করেছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।
তবে সুপারিশ চূড়ান্তই শেষ কথা নয়। এই সুপারিশ চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা। আর সেটি কবে থেকে কার্যকর করা হবে, জানানো হবে এরপরই।
সচিবালয়ে বেতন কাঠামো নিয়ে সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চোধুরী বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও আলোচনার প্রয়োজন আছে।’
পে-কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সবগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে।’
আগের দিন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে এবং যেকোনো সময় ঘোষিত হতে পারে।
তিনি বলেন, গত ১১ বছর পে-স্কেল না হওয়ায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মুদ্রাস্ফীতির চাপে আছেন। জনগণের জন্য কষ্টকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার সমন্বয় করতে হবে।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সুপারিশ করে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে ১০ সদস্যের কমিটি করে সরকার।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।


