উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাপানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির বার্ষিকী (:: উপলক্ষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার পুতিন কিমকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। সেই বার্তার জবাবেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা।
পুতিন তার বার্তায় বলেন, জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত সেনাদের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। দুই দেশের এই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব ‘সব ক্ষেত্রেই’ অব্যাহত থাকবে বলেও আশা করেন তিনি।
জবাবে কিম দৃঢ় ভাষায় জানান, দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্ক ন্যায়ের পথে অভিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস এবং বন্ধুত্বের মূল্যবান ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা দিতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন শুরু করার পর থেকেই পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকের পর কোনো যুদ্ধে এটিই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা।
এদিকে জাপানের শাসন থেকে মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ার পাল্লাদা জাহাজ শনিবার উত্তর কোরিয়ার ওনসান বন্দরে পৌঁছায়। কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার প্রাদেশিক কর্মকর্তারা এবং দেশটিতে রুশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জাহাজটিকে স্বাগত জানান।
একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আলোচনার আহ্বান জানান। দক্ষিণ কোরিয়ার মুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন এবং অস্ত্রবিরতির বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি ‘শান্তি ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা উচিত।
১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির লক্ষ্যে সংলাপের আহ্বান জানান লি। ওই যুদ্ধ একটি অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে থেমে গেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে পিয়ংইয়ং লির সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে উসকানি হিসেবে সমালোচনা করে আসছে উত্তর কোরিয়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাপানের হোক্কাইডোর কাছে একটি দ্বীপ সফর করে টোকিওর নিন্দার মুখে পড়েন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে জাপান। ১৯৪৫ সালে জাপানের আত্মসমর্পণের কয়েক দিনের মধ্যেই মস্কো দ্বীপটি দখল করে নেয়।


