সিলেটের নগরীতে প্রবীণ স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া নামে এক রঙমিস্ত্রিকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকাল ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
নিহতরা হলেন নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (১৫)। নিহত আব্দুস সাত্তার পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। নিহত গৃহকর্মী তাহমিনা নগরীর জল্লারপাড়া এলাকার আপ্তাব মিয়ার মেয়ে।
সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, রঙমিস্ত্রির কাজ করার সুবাদে বাবুল ওই বাসায় যাতায়াত করত। এর সূত্রে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে বাবুল বাসায় প্রবেশ করলে তাহমিনা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে একটি কক্ষে প্রবেশের পর দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে। তাহমিনাকে বাঁচাতে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায় বাবুল।
সে সময় প্রতিবেশীরা বাসা থেকে নারীদের চিৎকার শুনতে পান। পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে দোতলার বারান্দায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ গিয়ে আলামত ও সুরতহাল সংগ্রহ শেষে বিকাল ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা।


