জুলাইয়ের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের বর্ধিত প্রবাহ: তথ্যমন্ত্রী

জুলাইয়ের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের বর্ধিত প্রবাহ: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই বর্ধিত ও ধারাবাহিক প্রবাহ।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনার জন্ম হয়েছিল, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সেই চেতনাকেই নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

শনিবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাব মিলনায়তনে ‘রিমেম্বারিং জুলাই ২০২৪’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার অ্যাসোসিয়েশন ও নাগরিক কণ্ঠ ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে যখনই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখনই জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ প্রমাণ।

তথ্যমন্ত্রী ইতিহাস বিকৃতকারীদের সতর্ক করে বলেন, ইতিহাসকে সাময়িকভাবে বিকৃত করার চেষ্টা করা গেলেও প্রকৃত ইতিহাস শেষ পর্যন্ত নিজস্ব সত্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্বের দাবিকে ব্যবহার করে একদলীয় শাসন, বৈষম্য কিংবা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, ইতিহাস তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরও পড়ুন

স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ ও কোটা ব্যবসার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকেও কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাইয়ের অর্জনকে কোনোভাবেই খণ্ডিত বা বিকৃত হতে দেওয়া যাবে না। এই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের যথাযথ পুনর্বাসন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও এর পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগের আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জুলাইয়ের আন্দোলনকে বাংলাদেশের পাহাড়-সমতল, বাঙালি-অবাঙালি, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, গণতন্ত্র এবং মর্যাদার সংগ্রাম আখ্যা দিয়ে বলেন, ধর্ম, ভাষা, জাতিসত্তা কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতি জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী।

মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য সংসদে যুক্তি, তর্ক ও বিতর্কের মধ্যেই বিকশিত হয়। কিন্তু যারা গণতান্ত্রিক বিতর্ককে রাজপথের সংঘাত কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভাজনের অস্ত্রে পরিণত করতে চায়, তাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা, বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা এবং কৃত্রিম বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দলীয় সরকারের মতো নয়, বরং সমগ্র রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং খালেদা জিয়ার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্তরাধিকার ধারণ করেই বর্তমান সরকার গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে কাজ করছে।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মো. তৌফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও মাহমুদা হাবিবা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুল হান্নান চৌধুরী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad