প্লট প্রতারণা: বেস্টওয়ে ও ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

প্লট প্রতারণা: বেস্টওয়ে ও ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
Advertisement
Advertisement

সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান ও পরিচালকসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার সিআইডি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা এবং সেই অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়ার পর বনানী থানায় গতকাল মঙ্গলবার মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলা করা হয়।

মামলায় বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী এবং পরিচালক মো. মোমেনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জের ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে আকর্ষণীয় প্রচারণা চালিয়ে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে কিস্তিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তবে অধিকাংশ গ্রাহককে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন

অনুসন্ধানে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোট ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের প্লটের পরিবর্তে শুধু জিম্মা বা গ্যারান্টি হিসেবে সাব-কবলা দলিল দেওয়া হলেও প্রকৃত প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৮২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জমা, উত্তোলন, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। তদন্তে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এসব হিসাবে ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া অনুসন্ধানে ২০১০-২০১৪ সময়ে মোট ২ হাজার ৭১৩টি সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য মিলেছে, যেগুলো গ্রাহকদের কাছে জিম্মা বা সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এসব নথি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য এবং এ ঘটনায় আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ভুক্তভোগী গ্রাহকদের শনাক্ত ও তাদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজও চলমান রয়েছে।

এদিকে, আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, ভূমির কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন বা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad