রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড়ে ঢাকা-গামী একটি বাসের চাপায় আবুল কাশেম (৪৫) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। রোববার সকাল ১০টার দিকে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় জিয়াদ পুকুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপারইনটেনডেন্ট ছিলেন এবং কর্মস্থলের কারণে নগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার বছর বয়সী সন্তান তাসফিয়াকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন আবুল কাশেম। এ সময় রংপুর থেকে ঢাকাগামী আর এম স্পেশাল কোচ পেছানোর সময় তাদের চাপা দেয়। এতে শিশু তাসফিয়া অক্ষত থাকলেও ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবুল কাশেম।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আটকে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রংপুর-ঢাকা ছয় লেন মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
পরে স্থানীয়রা বাসচালক মর্তুজা (৫৬)কে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আনোয়ারুল হক বলেন, ‘স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। শুরুতে কিছু বাধার মুখে পড়লেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বাসটির প্রায় পুরোপুরি পুড়ে গেছে।’
তাজহাট মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ জনতা বাসে আগুন দিয়েছে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। পরে তাদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’


