গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেতে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই বিক্রির জন্য নয়’ এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের জনগণের।
ন্যাটো সম্মেলনে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমরা আশা করি, সব দেশ-বিশেষ করে আমাদের মিত্ররা-গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান করবে। আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আমাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সবার সম্মান দেখানো উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ডেনমার্ক ন্যাটোর প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে মিত্ররাও পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াবে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে জাতীয় নিরাপত্তা দেবে এবং যে কোনো মূল্যে আমাদের এটি প্রয়োজন।’।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রয়োজনে সামরিক—সব ধরনের বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হওয়ায় প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেনমার্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হবে। তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ড্যানিশ রাজ্যের অংশ। এর ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা হতে পারে, তবে তা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।’
এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতিতে ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণের এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর কাঠামোর মধ্য দিয়েই নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ সনদে বর্ণিত সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের অখণ্ডতার নীতির প্রতি সম্মান জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন ন্যাটো জোটের ঐক্য ও ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাসের গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে স্বশাসিত হলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের হাতে। আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথ, সামরিক অবস্থান ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।


