একমাত্র টেস্টে আড়াই দিনে হারের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নামছে বাংলাদেশ। সোমবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। সর্বশেষ ২০২২ সালে এই ফরম্যাটে খেলেছিল বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। এখন পর্যন্ত দুই দল খেলেছে ৮১ টি ম্যাচ, ৫১টি জিতে হেড টু হেডে এগিয়ে বাংলাদেশ ও ৩০টিতে জিতেছে জিম্বাবুয়ে।
টেস্টে অনভিজ্ঞ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশ নিয়ে একটু পরীক্ষানিরীক্ষা করলেও ওয়ানডেতে নামছে পুর্ণ শক্তির দল নিয়েই। বিশেষত পেস বোলিং আক্রমণে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামরা।
এদিকে জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরেছে ১১ মাস পর, সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে পঞ্চাশ ওভারের ফরম্যাটে খেলেছিল তারা। তবে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে আছে দারুণ ছন্দে। টানা চার সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে চ্যালেঞ্জে নামছে তারা, যার সর্বশেষটি এসেছে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
বাংলাদেশ দলের একমাত্র অস্বস্তি প্রথম ওয়ানডেতে লিটন দাসের না থাকা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে কাফ মাসলে টান খেয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন, খেলতে পারবেন না প্রথম ম্যাচে। এছাড়া ঘরের মাঠে সর্বশেষ তিন সিরিজের পারফরম্যান্স আমলে নিলে টপ ও মিডল অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো পারফর্মার যেমন আছে, তেমনি শঙ্কা আছে অধিনায়ক মিরাজের ব্যাটিং এপ্রোচ নিয়েও। যদিও মোসাদ্দেক হোসেন চার বছর পর দলে ফেরায় মিডল অর্ডারের ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তি ফিরেছে।
স্পিনার হিসেবে মিরাজের সাথে তানভীর ইসলামকেই বেশিরভাগ ম্যাচে খেলানো হয়েছে। তবে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন দেখিয়েছেন, তাকে সাইড বেঞ্চে রাখাটা যৌক্তিক নয়। এদিকে পেস আক্রমণেও আছে প্রতিযোগিতা। মোস্তাফিজ-রানা এক প্রকার নিশ্চিত বাংলাদেশের একাদশে। যদিও নতুন বলে ভালো করেও বেশিরভাগ সময় টিম কম্বিনেশনের জন্য বাদ পড়তে হয়েছে শরীফুল ইসলামকে। তার বদলে তাসকিন আহমেদকেই প্রাধান্য দেয়া হয় একাদশে।
টেস্টে না থাকলেও ওয়ানডে সিরিজে ফিরেছেন সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল। অধিনায়কত্বও থাকছে রিচার্ড এনগারাভার ওপর। ওয়ানডেতে জায়গা পেয়েছেন টেস্টে ১৪০ রানের ইনিংস খেলে ইনোসেন্ট কাইয়াও।
হারারের ঠান্ডা মৌসুমের এই উইকেটে ভাঙন ধরবে না, দিনের শুরুতে সাহায্য পাবেন পেসাররা। সেই হিসেবে আগে ব্যাট করলে ব্লেসিং মুজারাবানি, নিউম্যান ন্যামহুরিদের চ্যালেঞ্জটাও ফেস করতে হবে তানজিদ-শান্তদের। টেস্টেই তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন পেস-সহায়ক উইকেটে তাদের খেলা সহজ হবে না।
যদিও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক আছে বাংলাদেশ। বিসিবির এক ভিডিও বার্তায় বাঁহাতি পেসার শরীফুল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখানে বেশ কয়েকদিন হলো এসেছি। আসার পরে এখানকার আবহাওয়া এবং কন্ডিশনের সাথে আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন সবাই খুব ভালো শেপে আছে।’
জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এনগারাভা বলেছেন তারা হোম কন্ডিশনের সবটাই ভালোভাবে জানেন এবং টেস্ট ম্যাচেও সেটার প্রতিফলন দেখা গেছে। শরীফুল সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে নিজেদের সাম্প্রতিক সাফল্য টেনে বলেন, ‘আমরা গত ৫টি সিরিজ জিতেছি আলহামদুলিল্লাহ। তবে এটা যেহেতু ওদের হোম কন্ডিশন, তাই এখানে খেলা কিছুটা ডিফিকাল্ট হবে। আমরা চেষ্টা করব এটা মাথায় না রেখে আমাদের স্বাভাবিক গেমটা খেলার।’


