মোহাম্মদ সালাহ নিজে করলেন এক গোল, অন্যটিতে রাখলেন জাদুকরী অবদান। দলের প্রধান তারকার এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে সোমবার সকালে ভ্যাঙ্কুভারে প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে মিসর।
প্রথমার্ধের ছন্দহীনতা কাটিয়ে ওঠার পর, মাঝমাঠে সালাহর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে মিসরীয়রা। মাঠের পারফরম্যান্সে তারা জানান দিল, কেন তারা এবারের আসরে সমীহ জাগানিয়া দল।
কোচ হোসাম হাসান আবারও ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ওমর মারমুশের ঠিক পেছনে সালাহকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলান। ইমাম আশুর এবং মোস্তফা জিকো দুই উইং দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন, অন্যদিকে সালাহ স্ট্রাইকারের পেছনের ফাঁকা জায়গাগুলো ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের মধ্যমাঠ ও ডিফেন্সের মাঝে ভীতি ছড়াতে থাকেন।
তবে প্রথমার্ধের দীর্ঘ সময় মিসরকে বেশ ভালোই আটকে রেখেছিল প্রতিপক্ষ। তারা নিজেদের ডিফেন্স জমাট রেখে বক্সের চারপাশে সালাহকে একটুও জায়গা দেয়নি। মিসর বল দখলে এগিয়ে থাকলেও পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না এবং প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আক্রমণের ধার কিছুটা কম ছিল।
বিরতির পর সম্পূর্ণ অন্য এক মিসরের দেখা মেলে। দলটির আক্রমণের গতি বেড়ে যায় এবং দ্রুত বল সামনের দিকে বাড়াতে শুরু করে। সালাহ দুই প্রান্তে সরে না গিয়ে মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমণ পরিচালনা করে খেলায় অনেক বেশি জড়িয়ে পড়েন।
৫৮তম মিনিটে মোহাম্মদ হানির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডের সাহায্যে বল জালে জড়িয়ে মিসরকে সমতায় ফেরান মোস্তফা জিকো। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে মিসর আরও জোরালো আক্রমণ শুরু করে। এর ঠিক নয় মিনিট পর শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ। জিকোর সঙ্গে দ্রুত ওয়ান-টু পাসের সুবাদে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন সালাহ।
ম্যাচের শেষ দিকে লিভারপুল তারকার নেওয়া চমৎকার আউটসুইঙ্গিং কর্নার থেকে জোরালো হেডে গোল করে মাহমুদ ত্রেজেগে মিসরের বড় জয় নিশ্চিত করেন। পুরো ম্যাচে সালাহ গোলমুখে পাঁচটি শট নেন, যার মধ্যে দুটি ছিল অন-টার্গেট; আর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরার পুরস্কারও বগলদাবা করেন তিনি।
ভ্যাঙ্কুভারের মাঠ হলেও গ্যালারির আবহ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত সালাহ বলেন,
‘সব সমর্থক লাল জার্সি পরে আসায় মনে হচ্ছিল আমরা যেন মিসরেই খেলছি। দারুণ এক পরিবেশ ছিল। আমরা ইতিহাস গড়তে পারি এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পারি। আগামী বছরগুলোতে আপনারা এটিকে আমাদের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে মনে রাখবেন।’
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা মিসর এখন ইরানের বিপক্ষে সিয়াটলে মাঠে নামার আগে গ্রুপের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে ইরানের সাথে ড্র করা প্রতিপক্ষ দলটি এক পয়েন্ট নিয়ে এখন টেবিলের তলানিতেই রয়ে গেল।


