কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরীর ‘মর্ডান ড্রাগ’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাত্র কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২২টিরও বেশি ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে কারখানাটিতে অনুমোদনবিহীন ২২ ধরনের ওষুধ উৎপাদনের প্রমাণ মেলে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জুবায়ের ইসলাম মাত্র দুটি ওষুধের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ওষুধ তৈরি করছিলেন। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকার ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইয়াজ খান বলেন, ‘কারখানাটির বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কোনো অনুমোদিত টেকনিশিয়ান ছাড়াই সেখানে ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছিল। জব্দ করা মালামালের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
অভিযানে উপস্থিত কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিস সহকারী শাহ আলম সরকার বলেন, ‘জব্দ করা ২২ ধরনের ওষুধের কোনো অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি বিদেশি ব্র্যান্ডের ওষুধও এখানে তৈরি করা হতো। শিশুদের জন্য উৎপাদিত কিছু ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।’
অভিযান চলাকালে পাশের আরেকটি গোডাউন থেকেও বিপুল পরিমাণ ওষুধ জব্দ করা হয়।
কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে বলেন, ‘কয়েকটি ওষুধ তৈরির অনুমোদন রয়েছে, তবে কিছু ওষুধের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।’
অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান হাসান মাহমুদ, এনএসআইয়ের কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


