হজের খরচ কমিয়ে তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নাগালে আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ আরও সাশ্রয়ী বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
হজের খরচ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজ একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। এর মোট ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খরচ সৌদি আরব সরকার নির্ধারণ করে। এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাবু ভাড়া, পরিবহন, মোয়াল্লেম সার্ভিস চার্জ, মক্কা-মদিনায় হোটেল ভাড়া এবং ভিসা-ইন্সুরেন্স ফি অন্তর্ভুক্ত। বাকি মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যয় বাংলাদেশ অংশে হয়, যার সিংহভাগই বিমান ভাড়া।
সংসদকে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২৬ সালে হজের খরচ ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ নির্ধারিত হয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা (কুরবানিসহ)।
২০২৬ সালের হজ প্যাকেজে সৌদি আরব পর্বের ব্যয় হয় ৩ লাখ ৭৯৭ টাকা এবং বাংলাদেশ পর্বের ব্যয় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা, এর মধ্যে বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের জন্য একটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সৌদি আরবের খরচ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ আরও কমিয়ে আনার বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য সরকার সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেবে।


