প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান।
মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে বিএনপি বিট সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নতুন সরকারে চার মাস পূর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সাংবাদিক তার বক্তব্যে একটি বিষয় বলেছেন। তিনি নির্বাচনের পর বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন। মানুষের চোখে-মুখে তিনি খুশি দেখেছেন। আমার মনে হয়, একই জিনিস আমিও দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘সততার সঙ্গে বললে, এটি নিয়ে অনেকে অনেক রকম অর্থ করতে পারেন। তবে আমি অবশ্যই দায়িত্বের একটা অসম্ভব চাপ অনুভব করছি। প্রচুর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তাই দায়িত্বে অসম্ভব চাপ অনুভব করছি।’
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি আব্বার কাছ থেকে একটা কথা শুনেছিলাম। কয়েক দিন আগে অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় গাড়ির সহযাত্রীদের তা বলছিলাম। আব্বা একসময় তার একজন সহকর্মীকে বলেছিলেন, দিনটি যদি ২৪ ঘণ্টার বদলে ৪৮ ঘণ্টা হতো, তবে আমরা আরও ভালো কাজ করতে পারতাম।’
কাজের ব্যস্ততা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও সেদিন বলছিলাম, কখন অফিসে ঢুকছি আর কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, বুঝতেই পারছি না। দম ফেলার সময় পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আমারও মনে হয়, দিনটি আসলে ২৪ ঘণ্টার না হয়ে যদি ৪৮ ঘণ্টার হতো, তবে একটু ভালো হতো।’
নিজের অতীত নির্যাতন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জেলের ভেতর থেকে এসেছি। আমি শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তা করা উচিত। হ্যাঁ, অনেক কিছু হয়েছে। সেই বিষয়ে আমি অনেক কথাই বলতে পারি। আমি এই হারিয়েছি, ওই হারিয়েছি। এ জন্য অমুক দায়ী বা তমুক দায়ী।’
তিনি বলেন, ‘আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। এখনো এক্স-রে করলে হয়তো দেখা যাবে, আমার পিঠের হাড়টি একটু বাঁকা হয়ে জোড়া লেগে আছে। দীর্ঘদিন এটি এভাবেই ফেলে রাখা হয়েছিল। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হওয়ায় হয়তো কিছুটা বাঁকা রয়ে গেছে। সাধারণত চার সপ্তাহের জায়গায় তিন দিনেই হাড় জোড়া লেগে যায়।’
ক্ষোভ বা প্রতিশোধের মানসিকতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা এটার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়তো আমার পক্ষে সম্ভব। কিন্তু তাতে তো আমার হাড় সোজা হয়ে জোড়া লাগবে না। আমি এখনো মাঝে মাঝে যে ব্যথা অনুভব করি, সেই ব্যথা কি চলে যাবে? তা তো হবে না।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সেজন্যই আমাদের এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। আপনি এখনো বেঁচে আছেন, চলছেন, ফিরছেন। আপনার পরিবার আপনার সঙ্গে আছে। আমাদের এভাবে চিন্তা করা উচিত, আমরা এখন দেশের জন্য কী অবদান রাখতে পারি। হ্যাঁ, আমার এই ক্ষতি হয়ে গেছে। এর রিটার্ন আসবে না। এই অবস্থান থেকে আমাদের একটু পরিবর্তন হওয়া উচিত। আপনাদের এই কথাটা বলছি। দয়া করে আমার নেতাকর্মীদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিতে সাহায্য করবেন।’
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন ও প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। আরও উপস্থিত ছিলেন স্পিচরাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা সুজন ও শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।
মতবিনিময় সভার আগে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং খোলামেলা আলাপ করেন।


